শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
তোমার মোবাইল লেনদেনেও কি লুকিয়ে আছে জুয়ার ফাঁদ?
অনলাইন ডেস্ক
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন জুয়া ও বেটিং দমনে দেশজুড়ে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (২৭ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত এসব জুয়ার কার্যক্রমে জড়িতদের সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সিআইডি নিরলসভাবে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এজেন্টের অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনে সংশ্লিষ্ট থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি।
এইসব এজেন্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে যাতে তাদের লাইসেন্স বাতিল ও আর্থিক জরিমানার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা যায়।
বর্তমানে অনলাইন জুয়া মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করছে। সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে পড়ে তরুণ সমাজ এতে আসক্ত হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত আর্থিক ধ্বংস, পারিবারিক সংকট, অপরাধমূলক কার্যক্রম এমনকি আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে অনেককে।
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০ নম্বর ধারায় অনলাইন জুয়া খেলা, জুয়া সংশ্লিষ্ট অ্যাপ বা পোর্টাল তৈরি ও প্রচার আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রযোজ্য। এছাড়া ২১ ও ২২ ধারায় জুয়ার অর্থ লেনদেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো কার্যক্রম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিআইডি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন কেউ অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে জড়িয়ে না পড়ে এবং পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে তরুণদের এই বিষয়ে সচেতন করে।
সন্দেহজনক অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা মোবাইল নম্বর সম্পর্কে তথ্য দিতে অনুরোধ জানিয়ে সিআইডি তাদের সাইবার পুলিশ সেন্টারের হটলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে: ০১৩২০০১০১৪৬, ০১৩২০০১০১৪৭, ০১৩২০০১০১৪৮।